অন্যান্যট্যুর প্লানবাংলাদেশ

কুমারী ঝর্ণা, বান্দরবান

কুমারী ঝর্ণা (Kumari Waterfall) বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত। এটি একটি মৌসুমি ঝরনা — বর্ষাকালে অর্থাৎ বৃষ্টির সময়ই ঝর্ণাটির জল প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষার সময়ই “যৌবনের পূর্ণ রূপ” পায় কুমারী ঝর্ণা।

কোথায় এবং কিভাবে যাওয়া যায়:

  • থানচি থেকে যান: থানচি থেকে নৌকা করে সাঙ্গু নদীর পথে যাওয়া যায়।
  • নদীর নির্দিষ্ট এক পয়েন্টে নেমে একটু হাঁটলেই ঝর্ণার কাছে পৌঁছানো যায়।
  • তিন্দু এলাকায় কুমারী ঝর্ণা প্রায় ২–৩ মিনিট হেঁটে পৌঁছানো যায় বলে বলা হয়।
  • নৌকায় সাঙ্গু নদীর খরস্রোতায় ভাসতে গেলে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে লাইফ জ্যাকেট পরা প্রয়োজন।

🌧️ ভ্রমণের সেরা সময়:

  • জুন – অক্টোবর- ঝর্ণাটি ভ্রমণ করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো বর্ষার পর (সবচেয়ে জল প্রবাহ থাকে)
  • এ সময় ঝর্ণায় জলপ্রবাহ সবচেয়ে সুন্দর
  • নভেম্বরেও অনেক সময় ঝর্ণা থাকে, এজন্য নভেম্বর পর্যন্তও পর্যটকরা ঝর্ণা দেখতে যেতে পারে।

🚗 কিভাবে যাবেন?

ঢাকা → বান্দরবান

  • বাসে (AC/Non-AC): ৮৫০–১,৩০০ টাকা
  • সময়: ৭–৮ ঘণ্টা

বান্দরবান → থানচি

  • লোকাল জিপ/চাঁদের গাড়ি: ২০০–৩০০ টাকা
  • রিজার্ভ জিপ: ৪,০০০–৫,০০০ টাকা
  • সময়: ৩–৩.৫ ঘণ্টা

থানচি → তিন্দু (নৌকা)

ভাড়া (রিটার্নসহ):

  • ৩,৫০০–৪,৫০০ টাকা (৫–৬ জন ধারণক্ষমতা)
  • সময়: ১.৫–২ ঘণ্টা
  • নৌকা যাত্রায় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পাওয়া যাবে।

তিন্দু → কুমারী ঝর্ণা:

  • নৌকা থেকে নামার পর ২–৩ মিনিট হেঁটে
  • খুব সহজ পথ, বেশি কষ্টকর নয়

🏠 থাকার ব্যবস্থা (তিন্দু/থানচি)

তিন্দুতে

  • তিন্দু ইকো কটেজ
  • স্থানীয় হোমস্টে
  • 💰 ৩০০–৫০০ টাকা প্রতি রাত
  • খুব সাধারণ ব্যবস্থা, কিন্তু পরিবেশ অসাধারণ।

থানচিতে

  • থানচি রেস্ট হাউস
  • স্থানীয় কটেজ
  • 💰 ৪০০–৮০০ টাকা

🌄 কুমারী ঝর্ণার পাশের আরও ঘোরার জায়গাঃ

  • তিন্দু (Banglar Switzerland)
  • অমিয়াখুম
  • নফাখুম
  • রেমাক্রি ঝর্ণা
  • সাতভাইখুম
  • সাঙ্গু নদীর শিলা-পাথরের সৌন্দর্য

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্দেশনা পরামর্শ:

  • নৌকা চলার সময় সবসময় লাইফ জ্যাকেট পরবে, নদীর পথে নৌকাভ্রমণ করার সময় খুব সাবধান থাকতে হবে।
  • বর্ষায় ধারালো প্রবাহ থাকতে পারে—নৌকার মাঝির কথা মানতে হবে, কারণ পাহাড়ি নদীর প্রবাহ কখনো কখনো শক্তিশালী হতে পারে।
  • জুতা: ভালো গ্রিপের “স্যান্ডেল/ট্রেকিং স্যান্ডেল”, ঠাণ্ডা এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে উপযুক্ত পোশাক ও জুতা পরা ভালো।
  • অনুমোদিত গাইড নিলে সবচেয়ে নিরাপদ, যিনি পথ ও ঝর্ণার পরিবেশ ভালোভাবে জানেন।
  • পলিথিন নয়, বর্জ্য কোথাও ফেলবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!