
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত (Banshbaria Sea Beach) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ও ক্রমবর্ধমান পর্যটন কেন্দ্র। এটি মূলত এর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলের ভেতরে তৈরি কাঠের পাকা জেটির (walkway) জন্য পরিচিত। এটি সীতাকুন্ড শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এখানে ঝাউ বাগান, সবুজ ঘাস চর, বালির মাঠ, খোলা সমুদ্রের বাতাস এবং একটি লোহার সেতু রয়েছে, যা জাহাজ ঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার সূর্যাস্ত বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর।
🌊 বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
অবস্থান: বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরত্ব: প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার
ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ২৫০ কিলোমিটার
সমুদ্র: বঙ্গোপসাগরের অংশ
🏖️ বিশেষ আকর্ষণ
জেটি বা পাকা সেতু:
সমুদ্রের ভেতর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠের বা কংক্রিটের জেটি তৈরি করা হয়েছে, যেটি হাঁটার জন্য অত্যন্ত মনোরম।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি চমৎকার স্থান।
স্বচ্ছ জল ও বালুকাবেলা:
অন্যান্য অনেক সৈকতের তুলনায় এখানে পানির স্বচ্ছতা বেশি, আর সৈকতের বালু নরম ও পরিচ্ছন্ন।
ছবি তোলার জায়গা:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নীল পানি ও জেটির সৌন্দর্যের কারণে ফটোগ্রাফারদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্পট।
শান্ত পরিবেশ:
কক্সবাজারের মতো ভিড় নেই, তাই শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ চান এমনদের জন্য আদর্শ স্থান।
🚗 যেভাবে যাবেন:
চট্টগ্রাম শহর থেকে:
আপনি আকমল শাহ, অক্সিজেন মোড় বা স্টেশন রোড থেকে সীতাকুণ্ডগামী বাস বা লোকাল গাড়িতে উঠতে পারেন।
সীতাকুণ্ড নামার আগে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন অফিসের মোড়ে নেমে রিকশা/সি.এন.জি. তে করে সৈকতে যাওয়া যায় (প্রায় ৩ কিমি ভিতরে)।
🕒 ভ্রমণের সেরা সময়:
নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময় সবচেয়ে উপযুক্ত।
বর্ষাকালে পানি বেড়ে যায় এবং ঢেউ বেশি থাকে, তবে তখন দৃশ্যপটও খুব সুন্দর দেখা যায়।
⚠️ পরামর্শ:
জোয়ারের সময় জেটির শেষ প্রান্তে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সন্ধ্যার পর সৈকতে অবস্থান না করাই ভালো।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন — প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে আসবেন না।